চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে রাশেদুল ইসলাম (২৪) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাঙ্গুনিয়া–রাঙামাটি সড়কের রানিরহাট ঠান্ডাছড়ি গরুঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাশেদ। অন্যদিকে অটোরিকশার চার যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা জানান, সকালে রাঙ্গুনিয়া-রাঙামাটি সড়কের ওই বাঁকটি দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। ঘন কুয়াশা ও অসতর্কতার কারণে প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে। আজও একই স্থানে একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে এসে সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ভয়াবহ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দৌড়ে এসে দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করেন।
দুর্ঘটনায় আহত রাঙামাটি সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র জাকির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তারা তিন বন্ধু—রাশেদুল ইসলাম, আনছারুল করিম ও নাইমুল ইসলাম—চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকে সিএনজি অটোরিকশায় রাঙামাটি যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল রাঙামাটি সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দেওয়া।
“আমরা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রওনা হই। রানিরহাট ঠান্ডাছড়ি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে খুব দ্রুতগতিতে একটি ট্রাক আসতে দেখি। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটি আমাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। আমরা ছিটকে পড়ি। রাশেদ মাথায় মারাত্মক আঘাত পায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়,” বলেন জাকির।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আনছারুল করিম ও নাইমুল ইসলামকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত রাশেদের বোন সামিরা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, দমদমিয়া সিআইডি চেকপোস্টের কাছে। তিন ভাইবোনের মধ্যে রাশেদ সবচেয়ে ছোট।
তিনি বলেন, “পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল রাশেদ। তার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে পরিবারকে দাঁড় করাবে। সেই ছেলেটিকে এমনভাবে হারাবো কখনো ভাবিনি।” রাশেদের মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যরা শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল বিশ্বাস বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ট্রাক চালক ও ট্রাকটি জব্দের চেষ্টা চলছে। সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। তারা জানান, ওই সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও গতিরোধক বা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেই। দ্রুতগতির ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। আজ আবার এক ছাত্র মারা গেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে রাশেদুল ইসলাম (২৪) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাঙ্গুনিয়া–রাঙামাটি সড়কের রানিরহাট ঠান্ডাছড়ি গরুঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাশেদ। অন্যদিকে অটোরিকশার চার যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা জানান, সকালে রাঙ্গুনিয়া-রাঙামাটি সড়কের ওই বাঁকটি দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। ঘন কুয়াশা ও অসতর্কতার কারণে প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে। আজও একই স্থানে একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে এসে সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ভয়াবহ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দৌড়ে এসে দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করেন।
দুর্ঘটনায় আহত রাঙামাটি সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র জাকির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তারা তিন বন্ধু—রাশেদুল ইসলাম, আনছারুল করিম ও নাইমুল ইসলাম—চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকে সিএনজি অটোরিকশায় রাঙামাটি যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল রাঙামাটি সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দেওয়া।
“আমরা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রওনা হই। রানিরহাট ঠান্ডাছড়ি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে খুব দ্রুতগতিতে একটি ট্রাক আসতে দেখি। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটি আমাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। আমরা ছিটকে পড়ি। রাশেদ মাথায় মারাত্মক আঘাত পায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়,” বলেন জাকির।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আনছারুল করিম ও নাইমুল ইসলামকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত রাশেদের বোন সামিরা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, দমদমিয়া সিআইডি চেকপোস্টের কাছে। তিন ভাইবোনের মধ্যে রাশেদ সবচেয়ে ছোট।
তিনি বলেন, “পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল রাশেদ। তার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে পরিবারকে দাঁড় করাবে। সেই ছেলেটিকে এমনভাবে হারাবো কখনো ভাবিনি।” রাশেদের মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যরা শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল বিশ্বাস বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ট্রাক চালক ও ট্রাকটি জব্দের চেষ্টা চলছে। সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। তারা জানান, ওই সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও গতিরোধক বা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেই। দ্রুতগতির ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। আজ আবার এক ছাত্র মারা গেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”

আপনার মতামত লিখুন