ঢাকা    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

দু’মুঠো খাবারের জন্য স্কুল ছাড়ল কেয়া-আয়শা



দু’মুঠো খাবারের জন্য স্কুল ছাড়ল কেয়া-আয়শা
দু’মুঠো খাবারের জন্য স্কুল ছাড়ল কেয়া-আয়শা

দু’মুঠো খাবারের নিশ্চয়তার জন্য শৈশব ও বিদ্যালয় ছাড়তে হলো বড় কাজুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কেয়া ও তার ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শাকে। মায়ের হাত ধরে তারা ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছে। তাদের এভাবে চলে যাওয়ায় গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের।

কেয়া ও আয়শা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত। তবে অভাব-অনটনের কারণে তাদের জীবন ছিল নানা সংকটে জর্জরিত। শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রায় প্রতিদিনই তারা না খেয়ে স্কুলে আসত। পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্যেও তারা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

পরিবারের উপার্জনের নিশ্চয়তা না থাকা এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাদের মা। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় ছাড়াই, এমনকি বিদ্যালয় থেকে টিসি না নিয়েই তারা চলে গেছে।

কেয়ার সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজান মুকুলের ছিল বিশেষ স্নেহের সম্পর্ক। বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দল উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনালে অংশ নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে প্রধান শিক্ষক কক্সবাজার থেকে কানের দুল ও ব্রেসলেট এনে বিতরণ করেন।

সেই উপহারের একটি কানের দুল হারিয়ে ফেলেছিল কেয়া। মাত্র ১০ টাকা দামের দুলটি হারিয়ে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। কারণ দুলটির কাছে তার আর্থিক মূল্য নয়, বরং প্রিয় শিক্ষকের দেওয়া ভালোবাসা ও স্মৃতিই ছিল সবচেয়ে বড়।

আজ সেই কেয়াই বিদ্যালয়ে নেই। নেই তার ছোট বোন আয়শাও। তাদের চলে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, দুই শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা দিতে পারেননি।

শিক্ষকদের প্রত্যাশা, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে কেয়া ও আয়শাকে আবারও বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দু’মুঠো খাবারের জন্য যেন আর কোনো শিশুকে শিক্ষা ও শৈশব বিসর্জন দিতে না হয়—এটাই তাদের দাবি।

কেয়া ও আয়শার গল্প শুধু দুটি শিশুর স্কুল ছাড়ার ঘটনা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শিক্ষাজীবন নিয়ে একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


দু’মুঠো খাবারের জন্য স্কুল ছাড়ল কেয়া-আয়শা

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দু’মুঠো খাবারের নিশ্চয়তার জন্য শৈশব ও বিদ্যালয় ছাড়তে হলো বড় কাজুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কেয়া ও তার ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শাকে। মায়ের হাত ধরে তারা ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছে। তাদের এভাবে চলে যাওয়ায় গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের।

কেয়া ও আয়শা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত। তবে অভাব-অনটনের কারণে তাদের জীবন ছিল নানা সংকটে জর্জরিত। শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রায় প্রতিদিনই তারা না খেয়ে স্কুলে আসত। পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্যেও তারা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

পরিবারের উপার্জনের নিশ্চয়তা না থাকা এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাদের মা। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় ছাড়াই, এমনকি বিদ্যালয় থেকে টিসি না নিয়েই তারা চলে গেছে।

কেয়ার সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজান মুকুলের ছিল বিশেষ স্নেহের সম্পর্ক। বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দল উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনালে অংশ নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে প্রধান শিক্ষক কক্সবাজার থেকে কানের দুল ও ব্রেসলেট এনে বিতরণ করেন।

সেই উপহারের একটি কানের দুল হারিয়ে ফেলেছিল কেয়া। মাত্র ১০ টাকা দামের দুলটি হারিয়ে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। কারণ দুলটির কাছে তার আর্থিক মূল্য নয়, বরং প্রিয় শিক্ষকের দেওয়া ভালোবাসা ও স্মৃতিই ছিল সবচেয়ে বড়।

আজ সেই কেয়াই বিদ্যালয়ে নেই। নেই তার ছোট বোন আয়শাও। তাদের চলে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, দুই শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা দিতে পারেননি।

শিক্ষকদের প্রত্যাশা, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে কেয়া ও আয়শাকে আবারও বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দু’মুঠো খাবারের জন্য যেন আর কোনো শিশুকে শিক্ষা ও শৈশব বিসর্জন দিতে না হয়—এটাই তাদের দাবি।

কেয়া ও আয়শার গল্প শুধু দুটি শিশুর স্কুল ছাড়ার ঘটনা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শিক্ষাজীবন নিয়ে একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. একরামুল হক
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
প্রধান নির্বাহী : সাইদুল ইসলাম আবির।
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত