একটি রাত, কিছু মানুষ আর অদৃশ্য মানবতা
রাত তখন প্রায় ৯টা কিংবা ৯টা ৩০। আমি বসে ছিলাম “Always Open” অফিসে—অপেক্ষা করছিলাম অফিসের মালিক সিফাত ভাইয়ের জন্য। হঠাৎ অফিস স্টাফ প্রান্ত এসে বললো, “বাইরে আকাশটা খুব খারাপ, মনে হয় ঝড় হবে। তুমি বরং এখনই চলে যাও।”
কথাটা শুনে আর দেরি করলাম না। বাইরে বের হতেই বুঝলাম পরিস্থিতি আসলেই ভয়ংকর। চারদিকে ঘন মেঘ, আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। হঠাৎ কারেন্ট চলে গেছে—চারপাশ অন্ধকারে ডুবে গেছে। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে দৌড়ে ব্রিজের মাথায় এসে দাঁড়ালাম।
ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করলাম, কিন্তু কোনো ভ্যান পেলাম না। এদিকে বাতাস ক্রমেই জোরে বইছে, মনে হচ্ছে যেকোনো সময় বৃষ্টি নেমে যাবে।
ঠিক তখনই এক মুরুব্বির সাথে দেখা হলো। দুজনেই একসাথে হাঁটতে শুরু করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় যাবা?” আমি বললাম, “প্রশিক্ষার মোড় পর্যন্ত।”
তিনি বললেন, “আমি বেরাবাজুয়া মসজিদের পাশেই নামবো।”
কথা বলতে বলতে আমরা অনেকটা পথ চলে এলাম। রাস্তাটা ছিল অন্ধকার আর নির্জন, কিন্তু একসাথে থাকায় ভয়টা যেন কিছুটা কমে গেল। বেরাবাজুয়া রাস্তায় এসে আমি তাকে বললাম, “আপনি লাইট জ্বালিয়ে সাবধানে যাবেন।”
তিনি মৃদু হাসলেন, আর আমি আবার দৌড়ে এগিয়ে গেলাম।
অবশেষে প্রশিক্ষার মোড়ের কাছে পৌঁছে গেলাম। ঠিক তখনই এক ভদ্রলোক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে থামলেন।
তিনি বললেন, “কোথায় যাবেন? নামিয়ে দেবো?”
আমি বললাম, “না, আমার বাসা তো এখানেই।”
সময় কম থাকায় তাকে ঠিকমতো ধন্যবাদও জানাতে পারলাম না। তার মুখটা চেনা লাগছিল, কিন্তু নামটা ঠিক মনে করতে পারিনি। মনে হলো, হয়তো ফয়সাল বিশ্বাসের চাচ্চু হতে পারেন।
সেদিনের রাতটা আমাকে একটা জিনিস নতুন করে শিখিয়েছে—
অন্ধকার যতই গভীর হোক, এই পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ায়।
নোট: গল্পটি আরমান ইসলাম ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া একটি বাস্তব ঘটনার অনুভূতি প্রকাশ থেকে নেওয়া

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
একটি রাত, কিছু মানুষ আর অদৃশ্য মানবতা
রাত তখন প্রায় ৯টা কিংবা ৯টা ৩০। আমি বসে ছিলাম “Always Open” অফিসে—অপেক্ষা করছিলাম অফিসের মালিক সিফাত ভাইয়ের জন্য। হঠাৎ অফিস স্টাফ প্রান্ত এসে বললো, “বাইরে আকাশটা খুব খারাপ, মনে হয় ঝড় হবে। তুমি বরং এখনই চলে যাও।”
কথাটা শুনে আর দেরি করলাম না। বাইরে বের হতেই বুঝলাম পরিস্থিতি আসলেই ভয়ংকর। চারদিকে ঘন মেঘ, আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। হঠাৎ কারেন্ট চলে গেছে—চারপাশ অন্ধকারে ডুবে গেছে। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে দৌড়ে ব্রিজের মাথায় এসে দাঁড়ালাম।
ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করলাম, কিন্তু কোনো ভ্যান পেলাম না। এদিকে বাতাস ক্রমেই জোরে বইছে, মনে হচ্ছে যেকোনো সময় বৃষ্টি নেমে যাবে।
ঠিক তখনই এক মুরুব্বির সাথে দেখা হলো। দুজনেই একসাথে হাঁটতে শুরু করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় যাবা?” আমি বললাম, “প্রশিক্ষার মোড় পর্যন্ত।”
তিনি বললেন, “আমি বেরাবাজুয়া মসজিদের পাশেই নামবো।”
কথা বলতে বলতে আমরা অনেকটা পথ চলে এলাম। রাস্তাটা ছিল অন্ধকার আর নির্জন, কিন্তু একসাথে থাকায় ভয়টা যেন কিছুটা কমে গেল। বেরাবাজুয়া রাস্তায় এসে আমি তাকে বললাম, “আপনি লাইট জ্বালিয়ে সাবধানে যাবেন।”
তিনি মৃদু হাসলেন, আর আমি আবার দৌড়ে এগিয়ে গেলাম।
অবশেষে প্রশিক্ষার মোড়ের কাছে পৌঁছে গেলাম। ঠিক তখনই এক ভদ্রলোক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে থামলেন।
তিনি বললেন, “কোথায় যাবেন? নামিয়ে দেবো?”
আমি বললাম, “না, আমার বাসা তো এখানেই।”
সময় কম থাকায় তাকে ঠিকমতো ধন্যবাদও জানাতে পারলাম না। তার মুখটা চেনা লাগছিল, কিন্তু নামটা ঠিক মনে করতে পারিনি। মনে হলো, হয়তো ফয়সাল বিশ্বাসের চাচ্চু হতে পারেন।
সেদিনের রাতটা আমাকে একটা জিনিস নতুন করে শিখিয়েছে—
অন্ধকার যতই গভীর হোক, এই পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ায়।
নোট: গল্পটি আরমান ইসলাম ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া একটি বাস্তব ঘটনার অনুভূতি প্রকাশ থেকে নেওয়া

আপনার মতামত লিখুন