ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
খোলা বার্তা

রাষ্ট্রপতিকে বরণ করা জন্য বানানো হচ্ছে মঞ্চ



রাষ্ট্রপতিকে বরণ করা জন্য বানানো হচ্ছে মঞ্চ
রাষ্ট্রপতিকে বরণ করা জন্য বানানো হচ্ছে মঞ্চ

শহরের ব্যস্ততা যেন আজ অন্যরকম। সড়কের দুপাশে নতুন সাজ, কোথাও তৈরি হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। পরিচ্ছন্নতার কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত মানুষজন। সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

যে শহর তাকে দিয়েছে শৈশবের স্মৃতি, রাজনীতির প্রথম পাঠ আর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, সেই শহরেই এবার ফিরছেন রাষ্ট্রপতি হয়ে। তাই তার আগমনের অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ে এখন উৎসবের আমেজ। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই হবে নিজ জেলায় তার প্রথম সফর। তাকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ইতোমধ্যে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে শুরু হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, লাগানো হচ্ছে আলোকসজ্জা। একই সঙ্গে বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি তার বাবা প্রয়াত মির্জা রুহুল আমিনের কবর জিয়ারত করবেন। বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেখানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তবে দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনটি ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে হয়ে উঠতে যাচ্ছে বিশেষ তাৎপর্যের।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় বহুল প্রত্যাশিত‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘদিন ধরে জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের অন্য জেলায় ছুটে যাওয়ার প্রবণতা কমানো, স্থানীয়ভাবে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি এবং উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরির প্রত্যাশা থেকে এ দাবি উঠে আসে। রাষ্ট্রপতির হাত দিয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে তাই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন জেলার মানুষ।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির নিজ জেলায় আগমন ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।’

অনেকেই বলছেন, পরিচিত সেই মানুষটিকে এবার তারা দেখতে চান নতুন এক পরিচয়ে— রাষ্ট্রপতি হিসেবে। আর তার সফরের সঙ্গে জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় আনন্দের মাত্রাও বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে ৬ সেপ্টেম্বর যতই এগিয়ে আসছে, ততই বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের চিত্র। ব্যস্ত হয়ে উঠছে শহর, বাড়ছে মানুষের অপেক্ষা। শৈশবের সেই পরিচিত মাটিতে রাষ্ট্রপতির প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে যেন প্রস্তুত হচ্ছে পুরো ঠাকুরগাঁও।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


রাষ্ট্রপতিকে বরণ করা জন্য বানানো হচ্ছে মঞ্চ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শহরের ব্যস্ততা যেন আজ অন্যরকম। সড়কের দুপাশে নতুন সাজ, কোথাও তৈরি হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। পরিচ্ছন্নতার কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত মানুষজন। সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

যে শহর তাকে দিয়েছে শৈশবের স্মৃতি, রাজনীতির প্রথম পাঠ আর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, সেই শহরেই এবার ফিরছেন রাষ্ট্রপতি হয়ে। তাই তার আগমনের অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ে এখন উৎসবের আমেজ। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই হবে নিজ জেলায় তার প্রথম সফর। তাকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ইতোমধ্যে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে শুরু হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, লাগানো হচ্ছে আলোকসজ্জা। একই সঙ্গে বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি তার বাবা প্রয়াত মির্জা রুহুল আমিনের কবর জিয়ারত করবেন। বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেখানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তবে দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনটি ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে হয়ে উঠতে যাচ্ছে বিশেষ তাৎপর্যের।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় বহুল প্রত্যাশিত‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘদিন ধরে জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের অন্য জেলায় ছুটে যাওয়ার প্রবণতা কমানো, স্থানীয়ভাবে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি এবং উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরির প্রত্যাশা থেকে এ দাবি উঠে আসে। রাষ্ট্রপতির হাত দিয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে তাই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন জেলার মানুষ।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির নিজ জেলায় আগমন ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।’

অনেকেই বলছেন, পরিচিত সেই মানুষটিকে এবার তারা দেখতে চান নতুন এক পরিচয়ে— রাষ্ট্রপতি হিসেবে। আর তার সফরের সঙ্গে জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় আনন্দের মাত্রাও বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে ৬ সেপ্টেম্বর যতই এগিয়ে আসছে, ততই বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের চিত্র। ব্যস্ত হয়ে উঠছে শহর, বাড়ছে মানুষের অপেক্ষা। শৈশবের সেই পরিচিত মাটিতে রাষ্ট্রপতির প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে যেন প্রস্তুত হচ্ছে পুরো ঠাকুরগাঁও।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত