সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর নতুন বাজার এলাকায় ক্ষতিপূরণ প্রদান না করেই সড়ক ও জনপথ (রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে) বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতিকে ‘উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ী নিপীড়ন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র শেরপুর নতুন বাজারে শতাধিক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সম্প্রতি বাজারসংলগ্ন সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা, লিখিত নোটিশ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ছাড়াই দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দোকানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুললেও ক্রেতার অভাবে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী এক প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ ইয়াহইয়া, তোফায়েল আহমদ, সৈয়দ হুমায়ুন বখত, শামীম মুনিম, সৈয়দ হুমায়েল আহমদ, শাহ ইসমাইল আলী (বর্তমান ইউপি সদস্য), মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী, আশরাফ উদ্দিন (অপু), আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, “যে উন্নয়ন মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে, সে উন্নয়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। ক্ষতিপূরণ ছাড়া একটি ইটও ভাঙতে দেওয়া হবে না।” তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ ইসমাইল আলী বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে উন্নয়ন কাজ চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। তিনি অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিবাদ সভায় মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী বলেন, “ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিক্ষা দেয়। ক্ষতিপূরণ ছাড়া মানুষের রুজি-রোজগার ধ্বংস করা চরম অন্যায়।” প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনেরও আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, বাজার এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের ফলে অতিরিক্ত ধুলাবালি, যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।
প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট করে জানান, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান, উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর নতুন বাজার এলাকায় ক্ষতিপূরণ প্রদান না করেই সড়ক ও জনপথ (রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে) বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতিকে ‘উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ী নিপীড়ন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র শেরপুর নতুন বাজারে শতাধিক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সম্প্রতি বাজারসংলগ্ন সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা, লিখিত নোটিশ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ছাড়াই দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দোকানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুললেও ক্রেতার অভাবে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী এক প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ ইয়াহইয়া, তোফায়েল আহমদ, সৈয়দ হুমায়ুন বখত, শামীম মুনিম, সৈয়দ হুমায়েল আহমদ, শাহ ইসমাইল আলী (বর্তমান ইউপি সদস্য), মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী, আশরাফ উদ্দিন (অপু), আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, “যে উন্নয়ন মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে, সে উন্নয়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। ক্ষতিপূরণ ছাড়া একটি ইটও ভাঙতে দেওয়া হবে না।” তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ ইসমাইল আলী বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে উন্নয়ন কাজ চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। তিনি অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিবাদ সভায় মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী বলেন, “ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিক্ষা দেয়। ক্ষতিপূরণ ছাড়া মানুষের রুজি-রোজগার ধ্বংস করা চরম অন্যায়।” প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনেরও আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, বাজার এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের ফলে অতিরিক্ত ধুলাবালি, যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।
প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট করে জানান, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান, উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন