ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

কুয়াশা ও কনকনে শীতে স্থবির আক্কেলপুর, দ্বিমুখী চাপে কৃষকরা

শীত মৌসুম শুরু হতেই জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল শীত ও ঘন কুয়াশা আছড়ে পড়েছে।কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন হয়ে উঠেছে স্থবির। ঘর থেকে বের হওয়া যেন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টানা চার দিন সূর্যের দেখা মিলছে না, চারপাশ ঢেকে রয়েছে কুয়াশার সাদা চাদরে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে তাপমাত্রা গতকাল ছিল ১১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।এই স্যাঁতসেঁতে ও ঠান্ডা আবহাওয়া একদিকে কিছু শীতকালীন ফসলের জন্য উপকারী হলেও, অন্যদিকে অনেক অর্থকরী ফসলে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ফলে লাভ ও ক্ষতির দ্বিমুখী প্রভাব নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।উপজেলার পাশ্ববর্তী নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা কৃষি আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩০ ডিসেম্বর তা ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহজুড়ে উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশে অবস্থান করছে, যা সরাসরি ফসলের ওপর প্রভাব ফেলছে।শীতকালীন ফসলের জন্য উপকারী হলেও অর্থকরী ফসলের জন্য ঝুঁকি:আক্কেলপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে।এছাড়া টমেটো, সিম, বেগুন, গাজরসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ ব্যাপকভাবে হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, হালকা কুয়াশা ও শীতল আবহাওয়া শীতকালীন সবজি চাষের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মটরশুঁটি, পালং শাক, লাল শাক, মূলা ও গাজরের মতো ফসলে কুয়াশার কারণে জমিতে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকছে। এতে সেচের প্রয়োজন কিছুটা কমছে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে।তবে কুয়াশা যখন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তখন বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত কুয়াশা ও দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো না পাওয়ার কারণে ধানের বীজতলা, আলু, টমেটো, মরিচ, বেগুন ও পেঁয়াজের মতো অর্থকরী ফসল ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এসব ফসলে ছত্রাকজনিত রোগ, পাতাপচা, ডাউনি মিলডিউ, ব্লাইট ও লিফ কার্ল রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু জমিতে গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেছে এবং ফল পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী গ্রামের কৃষক জলিল মণ্ডল বলেন, “সকাল বেলা কুয়াশা না কাটলে জমি শুকাতে দেরি হয়। কয়েকদিন ধরে কুয়াশার শিশির রাত-দিন সমানভাবে পড়ছে। জমিতে দীর্ঘ সময় ভেজাভাব থাকায় রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এক জমি থেকে অন্য জমিতে সংক্রমণ ঘটছে। কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।”আক্কেলপুর পৌরসভার কৃষক আল রাফি জানান, “এ বছর আমি ৪ বিঘা জমিতে মাটির ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। অর্ধেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ধান ও সবজি উভয় ক্ষেত্রেই লাভের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়বে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন বলেন, “এ ধরনের আবহাওয়া বোরো ধানের বীজতলার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বোরো বীজতলা সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আলুর মোড়ক বা লেট ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত আলুর ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে এবং মোড়ক রোগের সংক্রমণ দেখা গেলে অনুমোদিত মাত্রায় ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।”

কুয়াশা ও কনকনে শীতে স্থবির আক্কেলপুর, দ্বিমুখী চাপে কৃষকরা