বরগুনার তালতলী বাজারে দোকান সংস্কারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে গালাগালি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন ওই কর্মকর্তারা।
অভিযুক্তরা হলেন পাউবোর তালতলী গেটম্যান মোঃ রাজিব এবং তালতলীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কাল শুক্রবার (৮ মে) তালতলী বাজারে একটি দোকান সংস্কারের কাজ চলছিল। এ সময় পাউবোর গেটম্যান রাজিব ঘটনাস্থলে এসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দোকান মালিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন রাজিব তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা কাজ বন্ধ করার একটি নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করেন।
ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া দোকান মালিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা দূর থেকে আসছি, আমাদের স্যারদের ম্যানেজ করতে হবে। রাজিব তো আগেই সব কথা বলেছে, আমার আর নতুন করে কি বলতে হবে। এ সময় তিনি মেজাজ হারিয়ে অযৌক্তিক কথাও বলেছেন।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. শাহাদাত হোসেন। চাঁদাবাজির বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ওই কর্মকর্তাদের বলেন, আপনারা নোটিশ দিয়েছেন, এখন তো আর বেআইনিভাবে টাকা চাইতে পারেন না।
তার এই যৌক্তিক কথায় আব্দুল কুদ্দুস মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কুদ্দুস মিয়ার পূর্ব পরিচিত রাজনৈতিক লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার গায়ে হাত তোলেন।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিককে লাঞ্ছিত হতে দেখে স্থানীয় জনগণ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
দোকান মালিক ইউসুফ আলী অভিযোগের সত্যতা শিকার করে বলেন, প্রথমে রাজিব এসে টাকা চাইছে, টাকা না দেওয়ায় কুদ্দুস মিয়াকে নিয়ে আসছে। তিনিও এসে টাকার কথা বলেন নানা ছলে। এসময় সাংবাদিক আসলে তাকেও হয়রানি করে তারা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তালতলী বাজার বা আসে পাশে যে কোনো এলাকায় কেউ দোকান বা বাড়ীঘর সংস্কার করতে গেলেই এই রাজিব এসে চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তিনি ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে নিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের চাপে রাখে। যারা টাকা না দেয় তাদের নোটিশ দিয়ে কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়। আমি প্রতিবাদ ও ভিডিও ধারনের সময় আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মোবাইল ফেরত পাই। রাজিব ও কুদ্দুস মিয়া প্রায় ১০ বছর একই এলাকায় চাকরি করার সুবাদে প্রভাবশালীদের সাথে মিশে এমন চাঁদাবাজি ও হয়রানি করছে সাধারন মানুষকে।
এ ঘটনা তালতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহাসিন মিয়া বলেন, তালতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত ভদ্র এবং নম্র মানুষ তার সাথে এভাবে উচ্চ-বাচ্চা করে কথা বলা এবং তাকে হেনস্তাকারী রাজিব ও কুদ্দুসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে সাংবাদিকরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অভিযুক্ত রাজিবের মোবাইল বন্ধ পেলেও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমারা কোনো টাকা পয়সা খাই না। আমাদের স্যারেরা আমাদের চরিত্রক সনদ দিতে পারে। তারা জানে আমরা কি কি করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে অভিযুক্ত দুই পাউবো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
বরগুনার তালতলী বাজারে দোকান সংস্কারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে গালাগালি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন ওই কর্মকর্তারা।
অভিযুক্তরা হলেন পাউবোর তালতলী গেটম্যান মোঃ রাজিব এবং তালতলীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কাল শুক্রবার (৮ মে) তালতলী বাজারে একটি দোকান সংস্কারের কাজ চলছিল। এ সময় পাউবোর গেটম্যান রাজিব ঘটনাস্থলে এসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দোকান মালিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন রাজিব তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা কাজ বন্ধ করার একটি নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করেন।
ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া দোকান মালিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা দূর থেকে আসছি, আমাদের স্যারদের ম্যানেজ করতে হবে। রাজিব তো আগেই সব কথা বলেছে, আমার আর নতুন করে কি বলতে হবে। এ সময় তিনি মেজাজ হারিয়ে অযৌক্তিক কথাও বলেছেন।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. শাহাদাত হোসেন। চাঁদাবাজির বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ওই কর্মকর্তাদের বলেন, আপনারা নোটিশ দিয়েছেন, এখন তো আর বেআইনিভাবে টাকা চাইতে পারেন না।
তার এই যৌক্তিক কথায় আব্দুল কুদ্দুস মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কুদ্দুস মিয়ার পূর্ব পরিচিত রাজনৈতিক লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার গায়ে হাত তোলেন।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিককে লাঞ্ছিত হতে দেখে স্থানীয় জনগণ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
দোকান মালিক ইউসুফ আলী অভিযোগের সত্যতা শিকার করে বলেন, প্রথমে রাজিব এসে টাকা চাইছে, টাকা না দেওয়ায় কুদ্দুস মিয়াকে নিয়ে আসছে। তিনিও এসে টাকার কথা বলেন নানা ছলে। এসময় সাংবাদিক আসলে তাকেও হয়রানি করে তারা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তালতলী বাজার বা আসে পাশে যে কোনো এলাকায় কেউ দোকান বা বাড়ীঘর সংস্কার করতে গেলেই এই রাজিব এসে চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তিনি ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে নিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের চাপে রাখে। যারা টাকা না দেয় তাদের নোটিশ দিয়ে কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়। আমি প্রতিবাদ ও ভিডিও ধারনের সময় আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মোবাইল ফেরত পাই। রাজিব ও কুদ্দুস মিয়া প্রায় ১০ বছর একই এলাকায় চাকরি করার সুবাদে প্রভাবশালীদের সাথে মিশে এমন চাঁদাবাজি ও হয়রানি করছে সাধারন মানুষকে।
এ ঘটনা তালতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহাসিন মিয়া বলেন, তালতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত ভদ্র এবং নম্র মানুষ তার সাথে এভাবে উচ্চ-বাচ্চা করে কথা বলা এবং তাকে হেনস্তাকারী রাজিব ও কুদ্দুসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে সাংবাদিকরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অভিযুক্ত রাজিবের মোবাইল বন্ধ পেলেও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমারা কোনো টাকা পয়সা খাই না। আমাদের স্যারেরা আমাদের চরিত্রক সনদ দিতে পারে। তারা জানে আমরা কি কি করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে অভিযুক্ত দুই পাউবো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন