টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা, এবং নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে নতুন পানি প্রবেশ করেছে। এর প্রভাবে বিলের বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন দেশি মাছের বেচাকেনা জমে উঠেছে।
তাড়াশ মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমি জেলে টেংরা, পুঁটি, কৈ, শিং, শোল, গুচিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে বাজারে আসছেন। নতুন পানির কারণে মাছের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে জেলেদের জালেও ধরা পড়ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি মাছ।
তাড়াশ গ্রামের জেলে সাদেক আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে বিলে মাছের পরিমাণ বেড়েছে। তবে মাছের সঙ্গে ডিমওয়ালা ছোট মাছও ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
একাধিক সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় এখনও নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি জাল’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শুধু ছোট মাছ নয়, বোয়ালসহ বিভিন্ন মূল্যবান মাছের পোনাও নির্বিচারে ধরা পড়ছে। তারা এই জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।
অন্যদিকে মাছের সরবরাহ বেড়েও বাজারে দামে তেমন প্রভাব পড়েনি। ক্রেতারা বলছেন, নতুন পানির দেশি মাছের স্বাদ ভালো হওয়ায় তুলনামূলক বেশি দাম দিয়েও তারা মাছ কিনছেন।
বর্তমানে তাড়াশ অঞ্চলের বাজারগুলোতে মাঝারি চিংড়ি প্রতি কেজি প্রায় ৮০০ টাকা, ছোট গুচি ৬০০ টাকা, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০–৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ ২০০–৩০০ টাকা, চান্দা ২০০ টাকা, শোল ৪০০–৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল ৫০০–৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু তাড়াশ নয় সিংড়া ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ ও জামতলী এলাকার সাপ্তাহিক হাটগুলোতেও মাছের আমদানি বেড়েছে। ডাহিয়া ব্রিজ, পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী পাইকারি মাছের আড়ৎ। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এসব স্থানে কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে।
চলনবিল সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও সাপ্তাহিক উত্তর গণজীবন পত্রিকার সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, নতুন পানিতে চলনবিলে মাছের প্রাচুর্য ফিরেছে, যা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক। তবে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা সংরক্ষণে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা, এবং নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে নতুন পানি প্রবেশ করেছে। এর প্রভাবে বিলের বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন দেশি মাছের বেচাকেনা জমে উঠেছে।
তাড়াশ মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমি জেলে টেংরা, পুঁটি, কৈ, শিং, শোল, গুচিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে বাজারে আসছেন। নতুন পানির কারণে মাছের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে জেলেদের জালেও ধরা পড়ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি মাছ।
তাড়াশ গ্রামের জেলে সাদেক আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে বিলে মাছের পরিমাণ বেড়েছে। তবে মাছের সঙ্গে ডিমওয়ালা ছোট মাছও ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
একাধিক সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় এখনও নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি জাল’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শুধু ছোট মাছ নয়, বোয়ালসহ বিভিন্ন মূল্যবান মাছের পোনাও নির্বিচারে ধরা পড়ছে। তারা এই জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।
অন্যদিকে মাছের সরবরাহ বেড়েও বাজারে দামে তেমন প্রভাব পড়েনি। ক্রেতারা বলছেন, নতুন পানির দেশি মাছের স্বাদ ভালো হওয়ায় তুলনামূলক বেশি দাম দিয়েও তারা মাছ কিনছেন।
বর্তমানে তাড়াশ অঞ্চলের বাজারগুলোতে মাঝারি চিংড়ি প্রতি কেজি প্রায় ৮০০ টাকা, ছোট গুচি ৬০০ টাকা, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০–৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ ২০০–৩০০ টাকা, চান্দা ২০০ টাকা, শোল ৪০০–৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল ৫০০–৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু তাড়াশ নয় সিংড়া ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ ও জামতলী এলাকার সাপ্তাহিক হাটগুলোতেও মাছের আমদানি বেড়েছে। ডাহিয়া ব্রিজ, পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী পাইকারি মাছের আড়ৎ। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এসব স্থানে কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে।
চলনবিল সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও সাপ্তাহিক উত্তর গণজীবন পত্রিকার সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, নতুন পানিতে চলনবিলে মাছের প্রাচুর্য ফিরেছে, যা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক। তবে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা সংরক্ষণে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন