দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর কুশদহ ইউনিয়নের বেতেরভাঙা ও ১ নম্বর জয়পুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও মাটি ধসে যায়। এরপর থেকে সেতুটি আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না।স্থানীয়রা জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা নিজ উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদাময় হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।স্থানীয় পথচারী হিটলার বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। দূর থেকে বোঝার উপায় থাকে না এটি রাস্তা, নাকি খাল। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হয়, এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে এক বছরের মধ্যেই সেতুর দুই পাশ ভেঙে যায়। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করে জনদুর্ভোগ দূর করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই যোগাযোগব্যবস্থা সংস্কার করা না হলে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।