ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
খোলা বার্তা

তাড়াশে সরকারি ঈদগাহ মাঠ দখল নিয়ে উত্তেজনা ‎



তাড়াশে সরকারি ঈদগাহ মাঠ দখল নিয়ে উত্তেজনা  ‎

‎সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি ঈদগাহ মাঠ রাতারাতি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠের ইটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছেন গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

গত ‎রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, একই গ্রামের প্রভাবশালী মো. জিয়াউল হকের ছেলে।

‎ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিকেলে দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেএম নাহিদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

‎অভিযোগে বলা হয়, গ্রামের পাকা সড়কসংলগ্ন প্রায় সাত শতক সরকারি জমি গত ৬১ বছর ধরে ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রামবাসী বংশপরম্পরায় এখানে দুই ঈদের নামাজ আদায় করছেন। এমনকি চলতি বছরও ঈদগাহ মাঠের লিজ নবায়ন করে যথারীতি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জমিটি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করেন। এরপর রোববার গভীর রাতে লোকজন নিয়ে এসে ঈদগাহ মাঠের পুরোনো ইটের প্রাচীর ভেঙে পুরো সাত শতক জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রামবাসী ঈদগাহ মাঠের চারপাশে টিনের বেড়া দেখে হতবাক হয়ে যান।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।

‎অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "জায়গাটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এতদিন বিভিন্ন কারণে দখল নিতে পারিনি। এখন আমার জমির দখল বুঝে নিয়েছি।"

‎অন্যদিকে দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর বলেন, "এটি সরকারি জমি। আইনগতভাবে লিজ নিয়ে বহু বছর ধরে আমরা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঈদগাহ মাঠ দখল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।"

‎এ বিষয়ে তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেএম নাহিদ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তের জন্য দেশিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


তাড়াশে সরকারি ঈদগাহ মাঠ দখল নিয়ে উত্তেজনা ‎

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

‎সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি ঈদগাহ মাঠ রাতারাতি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠের ইটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছেন গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

গত ‎রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, একই গ্রামের প্রভাবশালী মো. জিয়াউল হকের ছেলে।

‎ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিকেলে দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেএম নাহিদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

‎অভিযোগে বলা হয়, গ্রামের পাকা সড়কসংলগ্ন প্রায় সাত শতক সরকারি জমি গত ৬১ বছর ধরে ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রামবাসী বংশপরম্পরায় এখানে দুই ঈদের নামাজ আদায় করছেন। এমনকি চলতি বছরও ঈদগাহ মাঠের লিজ নবায়ন করে যথারীতি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জমিটি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করেন। এরপর রোববার গভীর রাতে লোকজন নিয়ে এসে ঈদগাহ মাঠের পুরোনো ইটের প্রাচীর ভেঙে পুরো সাত শতক জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রামবাসী ঈদগাহ মাঠের চারপাশে টিনের বেড়া দেখে হতবাক হয়ে যান।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।

‎অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "জায়গাটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এতদিন বিভিন্ন কারণে দখল নিতে পারিনি। এখন আমার জমির দখল বুঝে নিয়েছি।"

‎অন্যদিকে দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর বলেন, "এটি সরকারি জমি। আইনগতভাবে লিজ নিয়ে বহু বছর ধরে আমরা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঈদগাহ মাঠ দখল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।"

‎এ বিষয়ে তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেএম নাহিদ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তের জন্য দেশিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত