ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় এক এতিম মাদ্রাসাছাত্রকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের একটি গাছ গরু খেয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে শিশুটির ওপর অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নওয়াপাড়া বটতলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মা-বাবাহীন ওই শিশু মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করছে। সম্প্রতি মাদ্রাসার একটি ছোট গাছ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম মোতাহের মৃধার ছেলে কাওছার মৃধার গরু খেয়ে ফেলে। এ সময় শিশুটি ও তার এক সহপাঠী গরুটিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে কাওছার মৃধা ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির গলা ও কোমরে দড়ি বেঁধে তাকে গবাদিপশুর মতো টেনে হিঁচড়ে নির্যাতনের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, গলার দড়ি আলগা হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শিশুটি।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নওয়াপাড়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হলেও অনেকেই এ ধরনের আপস-মীমাংসার বিরোধিতা করেন।এলাকার সচেতন নাগরিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, একজন এতিম ও অসহায় শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশু নির্যাতনের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, “শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।”ঘটনার পর থেকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।