নিজস্ব প্রতিবেদক,, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা আব্দুস সামাদ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচিত হলে ভদ্রঘাট ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন মির্জা আব্দুস সামাদ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে মতামত নিচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখনও যোগাযোগব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিছু এলাকায় চলাচলে দুর্ভোগ, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পেতে নানা সীমাবদ্ধতা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব নিয়েও মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান মির্জা আব্দুস সামাদ।চেয়ারম্যান প্রার্থী মির্জা আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু নির্বাচনে জয়লাভ করাই তার লক্ষ্য নয়; নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধির সেবা পৌঁছে দিতে চান তিনি। ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করা, স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের সহযোগিতা নিশ্চিত করা, কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা।এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাগরিক সেবার মান বাড়ানো, সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।মির্জা আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছেন তিনি। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা বলছেন, মির্জা আব্দুস সামাদ নির্বাচিত হলে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চান।মির্জা আব্দুস সামাদ বলেন, 'ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মানুষ অনেক সম্ভাবনাময়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার কারণে তারা কাঙ্খিত সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে আছে। আমি চেয়ারম্যান হতে পারলে মানুষের এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেব। আমার লক্ষ্য ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা।'তিনি বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে আছি। মানুষের সুখ-দুঃখের কথা জানি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কোনো মানুষ যেন তার প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেব। দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।'স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান পদে যিনি নির্বাচিত হবেন, তার কাছে তাদের প্রধান প্রত্যাশা থাকবে এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকা। রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ চান তারা। মির্জা সামাদ যদি এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মির্জা আব্দুস সামাদের গণসংযোগকে কেন্দ্র করে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৎপরতা বেড়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একত্রিত করে ইউনিয়নে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন।মির্জা আব্দুস সামাদের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদকে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে চান তিনি। পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেই ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে তার।তরুণ প্রজন্মকে নিয়েও রয়েছে তার বিশেষ পরিকল্পনা। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সক্রিয় ও সম্ভাবনাময় প্রজন্ম গড়ে তুলতে চান তিনি। একই সঙ্গে নারীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।কৃষিনির্ভর ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও গুরুত্ব দিতে চান মির্জা সামাদ। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সরকারি কৃষি সুবিধা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।চেয়ারম্যান প্রার্থী মির্জা আব্দুস সামাদ বলেন , ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু একটি-দুটি সড়ক নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, কর্মসংস্থান তৈরি এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।তিনি আরও বলেন, ভদ্রঘাট ইউনিয়নকে আমি শুধু একটি ইউনিয়ন হিসেবে দেখি না, এটাকে নিজের পরিবারের মতো মনে করি। এখানকার মানুষের ভালো-মন্দের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। সুযোগ পেলে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে চাই। ভদ্রঘাটের প্রতিটি গ্রামকে উন্নয়নের আওতায় এনে মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করাই আমার লক্ষ্য।আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মির্জা আব্দুস সামাদের মাঠে সক্রিয় হওয়া ভদ্রঘাট ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কারা থাকছেন এবং ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন, তা সময়ই বলে দেবে। এরই মধ্যে নিজের প্রার্থিতার কথা জানিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন মির্জা আব্দুস সামাদ। তার প্রত্যাশা, জনগণের সমর্থন পেলে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।