খোলা বার্তা ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আদালত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনে বাধা, হয়রানি এবং বিধিবহির্ভূতভাবে বেতন কর্তনের অভিযোগ উঠেছে গুল্টা বাজার শহীদ এম মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।অভিযোগের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গুল্টা বাজার শহীদ এম মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজে।কলেজ সূত্রে জানা যায়, উপাধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার চার দিন আগেই তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। পরে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পর তদন্ত ও আইনগত মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ৭ মে গভর্নিং বডি গঠনের কার্যক্রম বাতিল করে বিধি মোতাবেক নতুন গভর্নিং বডি গঠন এবং অধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়।এদিকে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১১ ডিসেম্বর উপাধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদকে কলেজের সব ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ও দালিলিক কাগজপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই নির্দেশের বিষয়ে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি সভাপতির কাছে অসন্তোষজনক জবাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এরপর কলেজের সভাপতি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি উপাধ্যক্ষকে চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই তিনি দলবল নিয়ে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন।কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ৭ জুন অধ্যক্ষ মো. আছাদুজ্জামান কলেজে গেলে উপাধ্যক্ষ তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য করেন। পরে ২৩ জুন অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে উপাধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন মিলে অধ্যক্ষের বসার চেয়ার রুম থেকে সরিয়ে অন্যত্র রেখে দেন।অধ্যক্ষ আছাদুজ্জামানের অভিযোগ, গত ২৪ জুন তিনি কলেজে গেলে উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনি কলেজে আসতে পারবেন না, আসতে হলে পূর্বের কমিটি মেনে আসতে হবে।”অধ্যক্ষ মো. আছাদুজ্জামান বলেন, “বিজ্ঞ আদালত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গভর্নিং বডির নির্দেশনা অনুযায়ী আমি দায়িত্ব পালন করতে কলেজে গেলেও আমাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি হুমকি-ধামকিও দেওয়া হচ্ছে।”অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ফোনে এত কথা বলা যায় না, তাই কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”