মিনহাজ আলী, , শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শিবগঞ্জে জমি থেকে উত্তোলন শুরু হয়েছে নতুন আলু। উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি নতুন আলু পাইকারি ৭-১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। মাঠে ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ইতোমধ্যে ১০ হাজার ৮শ হেক্টর জমির আলু তোলা সম্পন্ন হয়েছে।কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। যার ফলে দাম কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক রাসেল প্রামানিক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার আলু চাষে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। অথচ পাইকারি বাজারে যে দাম পাচ্ছি, তা দিয়ে খরচই উঠছে না। মনে হচ্ছে আলু চাষ করে কি পাপই না জানি করেছি।"লক্ষীকোলা চকপাড়া গ্রামের কৃষক মেহেরুল ইসলাম বলেন, "গতবার আলুতে লোকসান হওয়ার পর ভাবছিলাম এবার হয়তো ভালো দাম পাবো। এই আশায় গরু বিক্রি করে ২ বিঘা জমিতে আলু লাগাইছি। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ। কিন্তু বর্তমানে আলুর যে বাজার তাতে উৎপাদন খরচই উঠবে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।"আলুর দাম কম হওয়ার কারণ হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন অত্যান্ত ভালো হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ কৃষক আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ব্যাপক আবাদ হয়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে।তিনি আরও জানান, অনেক কৃষক নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি রাসায়নিক ও জৈব সার ব্যবহার করেন। এতে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত কৃষকদের লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।