রবিউল ইসলাম রবি,, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোছা. হাবিবা খাতুন (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে বিরতির সময় ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহত হাবিবা উপজেলার পাকুরীহাটা গ্রামের হানিফ মন্ডলের মেয়ে। তিনি ধুনট হেমায়েতুল মিল্লাত একাডেমী মাদ্রাসা ও খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন। তিনি শরহে বেকায়া জামাতে পড়াশোনা করতেন।মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, রোববার ক্লাস শেষে বিরতির সময় ঔষধ সেবনের পর হাবিবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হাবিবার মা বলেন, “মেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।”মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “হাবিবা খুব ভালো ছাত্রী ছিল। নিয়মিত পড়াশোনা করত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।”হাবিবার শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “হাবিবা শান্ত ও নরম মনের মেয়ে ছিল। নিয়মিত ক্লাস করত। এভাবে হঠাৎ তার মৃত্যু হবে, তা ভাবতেও পারিনি।”সহপাঠীরা জানায়, হাবিবা শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে তারা শোকাহত।পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাবিবা কারও ওপর অভিমান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন—এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি।এদিকে, হাবিবার মৃত্যুর ঘটনায় ধুনট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে হাবিবা কী ধরনের ঔষধ সেবন করেছিলেন এবং ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।